১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

এবার চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

চীনের উইঘুর প্রদেশে অবস্থিত ফার্মগুলো থেকে আর পণ্য আমদানি করবে না বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, উইঘুরে মুসলিমদের ওপরে অত্যাচার চালাচ্ছে চীন। তাদেরকে জোর করে নূন্যতম বেতনে কিংবা বিনা বেতনে ফার্মগুলোতে কাজ করাচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র নীতিবিরুদ্ধ হওয়ায়, এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
এবার চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বাণিজ্য ডেস্ক

২ মিনিটে পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইন অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ নেই, সেখান থেকে পণ্য ক্রয় করা যাবে না। এই আইন অনুযায়ী চীনের উইঘুর থেকে পণ্য ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বেশ কয়েক মাস ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে চীনের উইঘুর থেকে পণ্য ক্রয় সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়ে আসছিল। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, চীন উইঘুরের মুসলিম সম্প্রদায়কে ওই এলাকায় আটকে রেখেছে ও কাজ করতে বাধ্য করছে। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২১ জুন) থেকে উইঘুর এলাকাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করল যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে কংগ্রেসে ‘জোরপূর্বক শ্রম আইন নিষিদ্ধকরণ অ্যাক্ট’ স্বাক্ষরিত হয়। সেখানে বলা হয়, এ কথা স্পষ্ট যে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি উইঘুরের মুসলিমদেরকে দাস বানিয়ে রেখেছে। তাদেরকে দিয়ে জোর করে কাজ করানো হচ্ছে, যা মানবতাবিরোধী।’

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর মার্কো রুবিও ও জেফ মার্কলি বলেছেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক আইন। এ আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা বাইডেন প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে চীন বলছে, উইঘুরে এমন কিছুই হচ্ছে না। কাউকে আটকে রাখা কিংবা কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মনগড়া কথা বলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া তথ্যমতে, ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে চীনা সরকার উইঘুরের মুসলমানদের ওপরে নির্যাতন চালিয়ে আসছে। বর্তমানে কম করে হলেও ১০ হাজার মুসলিম শ্রমিককে জোরপূর্বক চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করানো হচ্ছে। তাদের অনেককেই কোনো ধরনের মজুরি দেয়া হচ্ছে না, কিংবা দিলেও তা অপ্রতুল।

কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনও তুলেছে একই অভিযোগ। সংগঠনগুলো বলেছে, উইঘুরে মুসলিমদের কড়া নজরদারিতে রেখেছে চীনা সরকার। তাদের বিনা কারণে আটক করা হচ্ছে, করা হচ্ছে নির্যাতন। এমনকি উইঘুরের নারীদের জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণের মতো জঘন্য কাজ করেছে চীনা সরকার- এমনটাই অভিযোগ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর।

যুক্তরাষ্ট্র উইঘুর থেকে মূলত তুলা ও টমেটো আমদানি করত। কিন্তু নতুন আইনের ফলে, চীন তাদের নীতিতে পরিবর্তন না আনলে উইঘুর থেকে আর কোনো ধরনের পণ্য আমদানি করবে না যুক্তরাষ্ট্র।

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে সৌম্যর সরকারের মধ্যে

নেত্রকোনা শহর রক্ষা বাধে ভাঙ্গন

এবার চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট টাইম : ০১:০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুন ২০২২

চীনের উইঘুর প্রদেশে অবস্থিত ফার্মগুলো থেকে আর পণ্য আমদানি করবে না বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, উইঘুরে মুসলিমদের ওপরে অত্যাচার চালাচ্ছে চীন। তাদেরকে জোর করে নূন্যতম বেতনে কিংবা বিনা বেতনে ফার্মগুলোতে কাজ করাচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র নীতিবিরুদ্ধ হওয়ায়, এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
এবার চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বাণিজ্য ডেস্ক

২ মিনিটে পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইন অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ নেই, সেখান থেকে পণ্য ক্রয় করা যাবে না। এই আইন অনুযায়ী চীনের উইঘুর থেকে পণ্য ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বেশ কয়েক মাস ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে চীনের উইঘুর থেকে পণ্য ক্রয় সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়ে আসছিল। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, চীন উইঘুরের মুসলিম সম্প্রদায়কে ওই এলাকায় আটকে রেখেছে ও কাজ করতে বাধ্য করছে। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২১ জুন) থেকে উইঘুর এলাকাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করল যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে কংগ্রেসে ‘জোরপূর্বক শ্রম আইন নিষিদ্ধকরণ অ্যাক্ট’ স্বাক্ষরিত হয়। সেখানে বলা হয়, এ কথা স্পষ্ট যে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি উইঘুরের মুসলিমদেরকে দাস বানিয়ে রেখেছে। তাদেরকে দিয়ে জোর করে কাজ করানো হচ্ছে, যা মানবতাবিরোধী।’

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর মার্কো রুবিও ও জেফ মার্কলি বলেছেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক আইন। এ আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা বাইডেন প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে চীন বলছে, উইঘুরে এমন কিছুই হচ্ছে না। কাউকে আটকে রাখা কিংবা কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মনগড়া কথা বলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া তথ্যমতে, ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে চীনা সরকার উইঘুরের মুসলমানদের ওপরে নির্যাতন চালিয়ে আসছে। বর্তমানে কম করে হলেও ১০ হাজার মুসলিম শ্রমিককে জোরপূর্বক চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করানো হচ্ছে। তাদের অনেককেই কোনো ধরনের মজুরি দেয়া হচ্ছে না, কিংবা দিলেও তা অপ্রতুল।

কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনও তুলেছে একই অভিযোগ। সংগঠনগুলো বলেছে, উইঘুরে মুসলিমদের কড়া নজরদারিতে রেখেছে চীনা সরকার। তাদের বিনা কারণে আটক করা হচ্ছে, করা হচ্ছে নির্যাতন। এমনকি উইঘুরের নারীদের জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণের মতো জঘন্য কাজ করেছে চীনা সরকার- এমনটাই অভিযোগ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর।

যুক্তরাষ্ট্র উইঘুর থেকে মূলত তুলা ও টমেটো আমদানি করত। কিন্তু নতুন আইনের ফলে, চীন তাদের নীতিতে পরিবর্তন না আনলে উইঘুর থেকে আর কোনো ধরনের পণ্য আমদানি করবে না যুক্তরাষ্ট্র।