১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

পর্তুগাল-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তোড়জোর

  • নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ০২:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মে ২০২২
  • ১৫৬ বার পঠিত

সাম্প্রতিক পর্তুগালের সঙ্গে আরও শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার।

৯ বছর আগে বাংলাদেশ লিসবনে তার দূতাবাস প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং পর্তুগাল এখন বাংলাদেশেও একই কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান পর্তুগালে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা  জানান।

বাংলাদেশে ও পর্তুগালের সম্পর্ক আধুনিক সময়ের আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। যখন পর্তুগাল আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশ গুলো’তে উপনিবেশ করার প্রক্রিয়ায় ছিল, তখনই ২ দেশের মধ্যে একটি অ-ঔপনিবেশিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। ঐ সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, পর্তুগিজ অভিযাত্রী’রা বহু শতাব্দী ধরে  বাংলাদেশের মাটিতে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ব্যবসা করে। ঐসময় পর্তুগাল এবং বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক  অব্যাহত ছিল এবং ৭০ এর দশকে তারা পর্তুগালে ফিরে আসে। ৯ বছর আগে বাংলাদেশ পর্তুগালে তার আবাসিক কূটনৈতিক মিশন প্রতিষ্ঠা করেছে।

তারিক আহসান মনে করেন যে, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে পারস্পরিক স্বার্থ রয়েছে, যেমন পর্তুগালের দৃষ্টিকোণ থেকে, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যে টি ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক ভাবে উন্নতি করছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর, ১৯৭১ সালে, একটি নিম্ন আয়ের দেশ ছিল, কিন্তু এখন এটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে গত দশকে তার জিডিপি ৩ গুণ দেখেছে। তারিক আহসানের মতে পর্তুগালে দূতাবাস স্থাপনের কারণ হল এটি ২ দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হবে।

তারিক আহসান সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন যে পর্তুগাল বাংলাদেশ থেকে উপকৃত হতে  পারে কারণ বাংলাদেশের লোকজনের বাংলাদেশের বাইরে  যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সম্প্রতি, প্রচুর বাংলাদেশি পর্যটনের জন্য, বিদেশে লেখাপড়া করতে দেশ ছাড়ছেন।  

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, পর্তুগাল এমন একটি দেশ যেখানে আসতে  বাংলাদেশের লোকজনের প্রচুর আগ্রহ রয়েছে। পর্তুগালের আবহাওয়া, সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের লোকজনকে আকর্ষণ করে। শিক্ষার্থী’রা, পর্তুগালকে লেখাপড়া করতে বেছে নেয়, কারণ ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানে টিউশন ফি কম।

বর্তমানে যোগ্য বাংলাদেশি’রা কাজ করার জন্য পর্তুগালে আসতে আগ্রহী, তাই রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন যে তারা পর্তুগালে অভিবাসনের প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য শ্রম আইন গতিশীল করতে  পর্তুগালের সঙ্গে ১টি চুক্তি স্বাক্ষর করতে চান।

বান্দেশের রাষ্ট্রদূত পর্তুগালকে অভিবাসী বান্ধব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। পর্তুগালে আসা অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিয়ে পর্তুগালের রাজনৈতিক দল গুলোর দারুন আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়।  বাংলাদেশি’রা কখনই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না এবং তারা কঠোর পরিশ্রমী।  

তারিক আহসান আরও বলেন যে পর্তুগালে এখনও বাংলাদেশের ভালো রেকর্ড রয়েছে।

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে সৌম্যর সরকারের মধ্যে

নেত্রকোনা শহর রক্ষা বাধে ভাঙ্গন

পর্তুগাল-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তোড়জোর

আপডেট টাইম : ০২:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মে ২০২২

সাম্প্রতিক পর্তুগালের সঙ্গে আরও শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার।

৯ বছর আগে বাংলাদেশ লিসবনে তার দূতাবাস প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং পর্তুগাল এখন বাংলাদেশেও একই কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান পর্তুগালে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা  জানান।

বাংলাদেশে ও পর্তুগালের সম্পর্ক আধুনিক সময়ের আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। যখন পর্তুগাল আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশ গুলো’তে উপনিবেশ করার প্রক্রিয়ায় ছিল, তখনই ২ দেশের মধ্যে একটি অ-ঔপনিবেশিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। ঐ সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, পর্তুগিজ অভিযাত্রী’রা বহু শতাব্দী ধরে  বাংলাদেশের মাটিতে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ব্যবসা করে। ঐসময় পর্তুগাল এবং বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক  অব্যাহত ছিল এবং ৭০ এর দশকে তারা পর্তুগালে ফিরে আসে। ৯ বছর আগে বাংলাদেশ পর্তুগালে তার আবাসিক কূটনৈতিক মিশন প্রতিষ্ঠা করেছে।

তারিক আহসান মনে করেন যে, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে পারস্পরিক স্বার্থ রয়েছে, যেমন পর্তুগালের দৃষ্টিকোণ থেকে, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যে টি ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক ভাবে উন্নতি করছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর, ১৯৭১ সালে, একটি নিম্ন আয়ের দেশ ছিল, কিন্তু এখন এটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে গত দশকে তার জিডিপি ৩ গুণ দেখেছে। তারিক আহসানের মতে পর্তুগালে দূতাবাস স্থাপনের কারণ হল এটি ২ দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হবে।

তারিক আহসান সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন যে পর্তুগাল বাংলাদেশ থেকে উপকৃত হতে  পারে কারণ বাংলাদেশের লোকজনের বাংলাদেশের বাইরে  যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সম্প্রতি, প্রচুর বাংলাদেশি পর্যটনের জন্য, বিদেশে লেখাপড়া করতে দেশ ছাড়ছেন।  

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, পর্তুগাল এমন একটি দেশ যেখানে আসতে  বাংলাদেশের লোকজনের প্রচুর আগ্রহ রয়েছে। পর্তুগালের আবহাওয়া, সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের লোকজনকে আকর্ষণ করে। শিক্ষার্থী’রা, পর্তুগালকে লেখাপড়া করতে বেছে নেয়, কারণ ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানে টিউশন ফি কম।

বর্তমানে যোগ্য বাংলাদেশি’রা কাজ করার জন্য পর্তুগালে আসতে আগ্রহী, তাই রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন যে তারা পর্তুগালে অভিবাসনের প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য শ্রম আইন গতিশীল করতে  পর্তুগালের সঙ্গে ১টি চুক্তি স্বাক্ষর করতে চান।

বান্দেশের রাষ্ট্রদূত পর্তুগালকে অভিবাসী বান্ধব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। পর্তুগালে আসা অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিয়ে পর্তুগালের রাজনৈতিক দল গুলোর দারুন আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়।  বাংলাদেশি’রা কখনই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না এবং তারা কঠোর পরিশ্রমী।  

তারিক আহসান আরও বলেন যে পর্তুগালে এখনও বাংলাদেশের ভালো রেকর্ড রয়েছে।