১২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হিজলায় জমে উঠেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনা:প্রচরণায় এগিয়ে দিপু সিকদারের ঘোড়া

  • সময়ঃ ০৬:১৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪
  • ১৫৭ সময়

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় জমে উঠেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২য় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। দ্বিতীয় ধাপে বরিশালের হিজলা,মুলাদী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এরই মধ্যে হিজলা উপজেলায় নির্বাচন জমে উঠেছে। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ টিপু সিকদার এর প্রতিক মোটরসাইকেল, হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা আলতাফ মাহমুদ দিপু সিকদারের প্রতিক ঘোড়া,হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সার্জেন্ট অবঃ হাফিজ মাহামুদের হেলিকপ্টার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম বেলায়েত হোসেন ঢালীর আপন ছোট  ভাই মোঃ দেলোয়ার হোসেন  ফারুক ঢালীর প্রতিক আনারস ও পুত্র মোঃ নজরুল ইসলাম রাজু ঢালীর প্রতিক চিংড়ি মাছ মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থীই নির্বাচনী প্রচার জোরদার করার পাশাপাশি নিজ নিজ কৌশল প্রয়োগ করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের শেষ প্রান্তে এসে নানামুখী মেরুকরণ হচ্ছে। প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর হিসেবে সামনে আসছে বিভিন্ন সমীকরণ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ঘোড়া ও চিংড়ী মাছ মার্কার মধ্যে ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। শেষ পর্যন্ত ফলাফল কি হয় তা দেখার জন্য উপজেলাবাসীর চোখ এখন নির্বাচনের দিনের দিকে। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তাই হিজলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়া চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। বাসায় ফিরে পরের দিনের কর্মসূচী নিয়ে পরিকল্পনা করছেন। এর ফলে তাদের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কে কার চেয়ে বেশি কৌশল প্রয়োগ করে নিজের অবস্থান জোরদার করবেন এ নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। আর এ কৌশল প্রয়োগ করেই ব্যাংক ভোটের বাইরে থাকা ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা চলছে। আর এ নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচন কমিশন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রশাসনও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যাবতীয় প্রস্তুুতি নিয়েছে।

নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঈশ্বরগঞ্জের ইউএনও আরিফুল ইসলাম প্রিন্স সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত

ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর হিসেবে সামনে আসছে বিভিন্ন সমীকরণ।নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলার আনাচে-কানাচে প্রার্থীদের পোস্টার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাটের মোড়সহ উপজেলার অলি-গলিতে প্রার্থীদের পোস্টার শোভা পাচ্ছে। এলাকার উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটাররাও তাদের এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন। নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে নানা কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। অনেকেই এলাকার উন্নয়ন এবং ভোটারদের সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন। ছোট-বড় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়িক ও সামাজিক সংগঠনের সমর্থন এবং প্রশাসনিক লোকজনের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে নানামুখী সমীকরণ আলোচনায় আসছে। প্রার্থীদের মধ্যে কার পাল্লা ভারি তাও নির্ভর করছে এই সমীকরণের ওপর। এখন পর্যন্ত হিজলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরিবেশ প্রশংসনীয়। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের লোকজন নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই সুষ্ঠু ভোট হলে পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থীই বিজয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এটি একটি ইতিবাচক দিক বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।

হিজলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার প্রচারযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হোক সিকদারের দৌহিত্র ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম হাচান মাহমুদ শিকদারের সুযোগ্য পুত্র সাবেক ছাত্রনেতা, যুবনেতা, হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জননেতা আলতাফ মাহমুদ দিপু সিকদার। অপরদিকে অনন্য প্রার্থীরাও প্রচারযুদ্ধে পিছিয়ে নেই।

ভোটারদের একাংশ বলছেন, সততা, নিষ্ঠা ও পরিচ্ছন্নতায় এগিয়ে আছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলতাফ মাহমুদ দিপু সিকদার এর ঘোড়া মার্কা। মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে দিপু সিকদার এর ঘোড়া মার্কা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম বেলায়েত ঢালীর ছোট ভাই বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যাবসায়ী মোঃ দেলোয়ার হোসেন ফারুক ঢালীর আনারস মার্কার মধ্যে।স্থানীয় ভোটারের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে,তারা ভোট দেবেন প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, সততা ও যোগ্যতা দেখে।

ঘোড়া প্রতীকের আলতাফ মাহমুদ দিপু সিকদার জানান, উপজেলার খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য একটি অসাম্প্রদায়িক উপজেলা গঠনই তার মূল লক্ষ্য। যেখানে থাকবেনা কোন জাতি-গোষ্ঠী ও ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ।

তিনি আরও জানান, তিনি নির্বাচিত হলে উপজেলাকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি হিসেবে গড়ে তুলবেন। প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং সরকার প্রদত্ত ভূর্তকি প্রকৃত কৃষকদের বন্টনের ব্যবস্থা করবেন। বেকার যুবকদের তথ্য ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও সড়কের উন্নয়ন, প্রকৃত ভাতাভোগীদের প্রাধান্য দিয়ে ভাতার সুষম বন্টন, জমি জাল-জালিয়াতকারী এবং ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করাসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মান উন্নয়নকরণ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহ-অবস্থান নীতি বজায় রেখে শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান ও মন্দিরসমূহের মান উন্নয়ন, শিক্ষা শিল্প-সাহিত্যসহ অন্য ক্ষেত্রে অবদান রাখায় গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। সর্বোপরি জনগণের সার্বিক উন্নয়ন এবং ব্যক্তি পর্যায়ের বিকাশে সব পক্ষকে নিয়ে দলমত নির্বিশেষে কাজ করা। এ ছাড়া স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক সমৃদ্ধ হিজলা উপজেলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।তিনি আরও বলেন,হিজলা উপজেলার জনগণ যদি আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেন তাহলে এলাকায় তরুণ সমাজকে সাথে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে আমার অভিযান চলবে।

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) জানান, আগামী ২১শে মে হিজলা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা ক্ষেত্রে সবধরনের প্রস্তুুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হলেন ৫ জন,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হলেন ২ জন।

About Author Information

জনপ্রিয় নিউজ

হিজলায় জমে উঠেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনা:প্রচরণায় এগিয়ে দিপু সিকদারের ঘোড়া

সময়ঃ ০৬:১৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় জমে উঠেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২য় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। দ্বিতীয় ধাপে বরিশালের হিজলা,মুলাদী উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এরই মধ্যে হিজলা উপজেলায় নির্বাচন জমে উঠেছে। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ টিপু সিকদার এর প্রতিক মোটরসাইকেল, হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা আলতাফ মাহমুদ দিপু সিকদারের প্রতিক ঘোড়া,হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সার্জেন্ট অবঃ হাফিজ মাহামুদের হেলিকপ্টার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম বেলায়েত হোসেন ঢালীর আপন ছোট  ভাই মোঃ দেলোয়ার হোসেন  ফারুক ঢালীর প্রতিক আনারস ও পুত্র মোঃ নজরুল ইসলাম রাজু ঢালীর প্রতিক চিংড়ি মাছ মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থীই নির্বাচনী প্রচার জোরদার করার পাশাপাশি নিজ নিজ কৌশল প্রয়োগ করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের শেষ প্রান্তে এসে নানামুখী মেরুকরণ হচ্ছে। প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর হিসেবে সামনে আসছে বিভিন্ন সমীকরণ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ঘোড়া ও চিংড়ী মাছ মার্কার মধ্যে ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। শেষ পর্যন্ত ফলাফল কি হয় তা দেখার জন্য উপজেলাবাসীর চোখ এখন নির্বাচনের দিনের দিকে। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তাই হিজলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়া চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। বাসায় ফিরে পরের দিনের কর্মসূচী নিয়ে পরিকল্পনা করছেন। এর ফলে তাদের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কে কার চেয়ে বেশি কৌশল প্রয়োগ করে নিজের অবস্থান জোরদার করবেন এ নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। আর এ কৌশল প্রয়োগ করেই ব্যাংক ভোটের বাইরে থাকা ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা চলছে। আর এ নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচন কমিশন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রশাসনও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যাবতীয় প্রস্তুুতি নিয়েছে।

নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঈশ্বরগঞ্জের ইউএনও আরিফুল ইসলাম প্রিন্স সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত

ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর হিসেবে সামনে আসছে বিভিন্ন সমীকরণ।নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলার আনাচে-কানাচে প্রার্থীদের পোস্টার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাটের মোড়সহ উপজেলার অলি-গলিতে প্রার্থীদের পোস্টার শোভা পাচ্ছে। এলাকার উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটাররাও তাদের এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন। নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে নানা কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। অনেকেই এলাকার উন্নয়ন এবং ভোটারদের সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন। ছোট-বড় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়িক ও সামাজিক সংগঠনের সমর্থন এবং প্রশাসনিক লোকজনের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে নানামুখী সমীকরণ আলোচনায় আসছে। প্রার্থীদের মধ্যে কার পাল্লা ভারি তাও নির্ভর করছে এই সমীকরণের ওপর। এখন পর্যন্ত হিজলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরিবেশ প্রশংসনীয়। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের লোকজন নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই সুষ্ঠু ভোট হলে পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থীই বিজয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এটি একটি ইতিবাচক দিক বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।

হিজলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার প্রচারযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হোক সিকদারের দৌহিত্র ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম হাচান মাহমুদ শিকদারের সুযোগ্য পুত্র সাবেক ছাত্রনেতা, যুবনেতা, হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জননেতা আলতাফ মাহমুদ দিপু সিকদার। অপরদিকে অনন্য প্রার্থীরাও প্রচারযুদ্ধে পিছিয়ে নেই।

ভোটারদের একাংশ বলছেন, সততা, নিষ্ঠা ও পরিচ্ছন্নতায় এগিয়ে আছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলতাফ মাহমুদ দিপু সিকদার এর ঘোড়া মার্কা। মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে দিপু সিকদার এর ঘোড়া মার্কা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম বেলায়েত ঢালীর ছোট ভাই বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যাবসায়ী মোঃ দেলোয়ার হোসেন ফারুক ঢালীর আনারস মার্কার মধ্যে।স্থানীয় ভোটারের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে,তারা ভোট দেবেন প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, সততা ও যোগ্যতা দেখে।

ঘোড়া প্রতীকের আলতাফ মাহমুদ দিপু সিকদার জানান, উপজেলার খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য একটি অসাম্প্রদায়িক উপজেলা গঠনই তার মূল লক্ষ্য। যেখানে থাকবেনা কোন জাতি-গোষ্ঠী ও ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ।

তিনি আরও জানান, তিনি নির্বাচিত হলে উপজেলাকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি হিসেবে গড়ে তুলবেন। প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং সরকার প্রদত্ত ভূর্তকি প্রকৃত কৃষকদের বন্টনের ব্যবস্থা করবেন। বেকার যুবকদের তথ্য ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও সড়কের উন্নয়ন, প্রকৃত ভাতাভোগীদের প্রাধান্য দিয়ে ভাতার সুষম বন্টন, জমি জাল-জালিয়াতকারী এবং ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করাসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মান উন্নয়নকরণ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহ-অবস্থান নীতি বজায় রেখে শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান ও মন্দিরসমূহের মান উন্নয়ন, শিক্ষা শিল্প-সাহিত্যসহ অন্য ক্ষেত্রে অবদান রাখায় গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। সর্বোপরি জনগণের সার্বিক উন্নয়ন এবং ব্যক্তি পর্যায়ের বিকাশে সব পক্ষকে নিয়ে দলমত নির্বিশেষে কাজ করা। এ ছাড়া স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক সমৃদ্ধ হিজলা উপজেলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।তিনি আরও বলেন,হিজলা উপজেলার জনগণ যদি আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেন তাহলে এলাকায় তরুণ সমাজকে সাথে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে আমার অভিযান চলবে।

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) জানান, আগামী ২১শে মে হিজলা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা ক্ষেত্রে সবধরনের প্রস্তুুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হলেন ৫ জন,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হলেন ২ জন।